11 Agrohayon 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০
Home / জাতীয় / হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা

হাসপাতালে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা

 

মোহাম্মদ রহিসুল হক: দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চলমান অব্যবস্থাপনা নতুন বিষয় নয়। কোরোনা-কালীন সময়ে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়মের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলো অনেকটা স্পস্ট হয়ে উঠেছে। মিঠু, আফজাল, শাহেদ, আরিফ, সাবরিনা ও শারমিনদের দুর্র্নীতির খবরে যখন দেশের মানুষের মধ্যে কোভিড-পরীক্ষায় চরম অনীহা, তখন মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে চলছে দেশের বিপুল সংখ্যক হাসপাতাল। এমন খবরে জনমনে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা। এর অন্যতম কারণ প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস)-এর পাবলিক হেলথ অনুষদের ডীন ও কমিউনিটি ডেন্টিসট্রি বিভাগের প্রধান এবং বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ এসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠমোর প্রশাসনিক স্তরে হাসপাতাল নিবন্ধন, চিকিৎসকদের সনদ প্রদান এবং ওষুধের ব্যবহার, বিপণন ও নিবন্ধনের জন্য আলাদা আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের কাজ হল সবকিছু ঠিকমত চলছে কিনা তা দেখভাল করা। এসব পর্যবেক্ষণ করার জন্য লোকবলও নির্ধারন করা আছে। তাহলে, দেশে অনুমোদনবিহীন হাসপাতালগুলো চলছে কি করে? সনদবিহীন ডাক্তার মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে কিভাবে? খুব সহজ উত্তর। যেসব কর্তৃপক্ষের এসব তদারকি করার কথা রয়েছে তারা তা সঠিকভাবে করছেন না। অথবা কোন অদৃশ্য কারণে তারা এসব কাজে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে করে জনদুর্ভোগ বাড়ছে, জনস্বাস্থ্য প্রতিনিয়ত হুমকির মধ্যে পড়ছে এবং মানুষের মৃত্যু-ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দুর্ভোগের দায় অবশ্যই এর দেখভালে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ওপর সমানভাবে বর্তায়।

তিনি আরো বলেন, দেশের ফার্মেসীগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে দেয়া আছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও নৈতিক দায়িত্ব হল কোন ফার্মেসী যাতে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করতে না পারে যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন মনে করেন, সর্বক্ষেত্রে জবাবদিহিতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি আমাদেরকে আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবন-মৃত্যুর মত এসব সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেশপ্রেমিক ও সৎ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সৎ কাজের জন্য পুরস্কার ও অসৎ কাজের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদেরকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলো নিয়মিত পরিদর্শণ করতে হবে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কোন আইনের ব্যাত্যয় ঘটলে ও জনস্বাস্থ্য বিঘিœত হলে এর জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুন...

প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিন বাহিনী প্রধানদের সাক্ষাৎ

সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০ উপলক্ষে শনিবার তিন বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। …