27 Magh 1427 বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / সর্বশেষ / আইনে না থাকলেও জবি শিক্ষকের চাকরির বয়স বাড়াতে তোড়জোড়

আইনে না থাকলেও জবি শিক্ষকের চাকরির বয়স বাড়াতে তোড়জোড়

 

জাকির হোসেন: 

আইন অনুসারে অবসরের সময় হয়ে গেছে। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আরও একবছর চাকরি মেয়াদ বাড়াতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. এস এম আনোয়ারা বেগম। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কোনো আইনে সে সুযোগ নেই। এতে বিরক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

আইনে না থাকা সত্ত্বেও সরকারের কোনো নির্দেশনা বা আদালতের আদেশ আছে কিনা যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার কাছে পরামর্শ চেয়েছে।

এছাড়া ড. আনোয়ারার বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ার  স্বচ্ছতা ও তার প্রকাশনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ড. এস এম আনোয়ারা বেগম

 

ড. এস এম আনোয়ারা বেগম ১৯৮৭ সালে জগন্নাথ কলেজে যোগদান করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত আছেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কর্মকমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার স্বাভাবিক চাকরির বয়সসীমা আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আরও একবছর চাকরিতে থাকতে চেয়ে আবেদন করেছেন।

গত ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যোলয়ের রেজিষ্টার দফতর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের অবসর গ্রহণের বয়স সংক্রান্ত  একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৮৩ তম সভার গৃহিত সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক) অবসর গ্রহণের বিষয়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ৬৫ বৎসর বয়স এবং সকল কর্মকর্তা কর্মচারি ৬০ বৎসর বয়স পূর্তিতে অবসর গ্রহণ করবেন। খ) ‘‘ক” বির্ণিত বিষয় ব্যাতিত অবসর প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল বিষয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান আইন এবং পরবর্তীতে জারিকৃত আদেশ ও প্রজ্ঞাপণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযোজ্য হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

 

এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকগণের চাকুরি হইতে অবসর গ্রহণ সম্পর্কে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন ২০১২ সালের ২৯ নং আইনের ৩ ধারায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইন, অধ্যাদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ, বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি, বিধি, প্রবিধি, উপ-আইন অথবা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন কোন দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ৬৫ (পঁয়ষট্টি) বৎসর বয়স পূর্তিতে চাকুরি হইতে অবসর গ্রহণ করিবেন ।’

এ আইনে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের অবসরের বয়সসীমা এক বছর বৃদ্ধি করার কোন বিধান নেই।

অভিযোগ উঠেছে, অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমের শিক্ষাজীবনে কোন প্রথম শ্রেণী নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/অধ্যাপক
হওয়ার জন্য নুন্যতম প্রকাশনা থাকা প্রয়োজন তাও তার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে অধ্যাপক আনোয়ারার আপলোড করা একটি সিভি পাওয়া যায়।
সেখানে দেখা যায় তিনি তার একক নামে লেখা প্রকাশিত নয়টি প্রবন্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা
গেছে তার একক নামে কোনো প্রকাশনা নেই এবং ঐ প্রবন্ধগুলি সবই দ্বৈত নামে লেখা যা তিনি একক নামে চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওই প্রবন্ধগুলো বেশিরভাগই স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জানালে প্রকাশিত নয়।

সিভিতে তিনি শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল উল্লেখ করেননি। এ ধরনের প্রকাশনা ও প্রথম শ্রেণীহীন শিক্ষাজীবন নিয়ে তিনি কীভাবে নিয়োগ ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেন সেটি নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। কিছুদিন আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নামে একটি বই লিখেছেন যা ন্যাশনাল পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত।

সে বইয়ে দেখা যায় সব প্রবন্ধই বিভিন্ন লেখক ও কলামিষ্টের। কিন্তু বইয়ের কাভার পেজে তিনি সংকলিত কথাটি না লিখে শুধু নিজের নাম ব্যাবহার করেছেন তাতে বইটি
তার নিজের লেখা বলে মনে হয়। তার সিভিতেও তিনি এ বই তার নিজের লেখা বলে দাবি করেছেন।

অধ্যাপক আনোয়ারার নামে প্রকাশনা জালিয়াতির সাম্প্রতিক অভিযোগ হচ্ছে তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের যে প্রকাশনা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তাতে একটি প্রবন্ধ জমা দিয়েছেন যার বেশিরভাগ অংশ অধ্যাপক অরুণ কুমার গোস্বামীর এক প্রবন্ধ থেকে নেয়া। যেটি ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পরেছে। অধ্যাপক গোস্বামী এ নিয়ে প্রমাণসহ একটি অভিযোগও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ড. আনোয়ারা বেগমের চাকরির বয়স বাড়ানোর আবেদনের বিষয়টি জানে না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। জানা গেছে, শিক্ষক সমিতিকে না জানিয়েই তিনি আবেদনটি করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির বয়স বাড়ানোর আবেদন প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ড. আনোয়ার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির মেয়াদ একবছর বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন। তার আবেদনের আইনগত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনি উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে মতামত আসবে। এর ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

আরও পড়ুন...

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা: জিপিএ-৫ পেলেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। পাস করেছেন সব পরীক্ষার্থী। এবার মোট পরীক্ষার্থী …