11 Agrohayon 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০
Home / সর্বশেষ / অস্ফুষ্ট ভালোবাসা : শেষ পর্ব

অস্ফুষ্ট ভালোবাসা : শেষ পর্ব

 

 

মেঘনায় লঞ্চ ডুবে গেছে। বহু যাত্রী নিখোঁজ। সকাল থেকে টিভিগুলো ব্রেকিং দিচ্ছে। সকাল ৮টায় ফোন আসল প্রতিনিধির। অনিন্দ্য ঘুম থেকে জেগে রিপোর্টারকে ফোন দিল। নিউজ এডিটর, এডিটর সবাই খবর জানতে চাইছে কি অবস্থা। প্রতিনিধি একটু পর পর ফোন করে আপডেট জানানচ্ছে।

হঠাৎ এডিটরের ফোন। তারাতারি অফিস আসো। গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। অনিন্দ্য তখনও নাস্তা করেনি। ৯টার মধ্যে বেরিয়ে পড়ল। গাড়িতে উঠে মনে হলো ফারাহকে ফোন করা হয়নি। সকালে কথা না হলে সারাদিন গাল ফুলিয়ে থাকবে। কিন্তু আজকের জরুরি অবস্থাটা নিশ্চই ফারহ বুঝবে। ও কখনো আমার কাজে ডিস্ট্রাব করে না। তারপরও মনটা খস খস করছে। মোবাইলে কল করল। কিন্তু মোবাইল বন্ধ পেল। দুইবার ট্রাই করতেই গাড়ি অফিস পৌছে গেল। অফিসে ঢুকে অনিন্দ্য সরাসরি এডিটরের রুমে চলে গেলে। সেখানে বসে আছে বার্তা সম্পাদক, আর দুই জন রিপোর্টার। এডিটর বললেন অনিন্দ্য তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। খবর কি?

অনিন্দ জানালো, লঞ্চটিকে প্রায় ৭/৮শ যাত্রী ছিলো। নদীতে অনেক  স্রোত। আর বাতাস প্রচণ্ড। আর মাঝ নদীতে হওয়ায় বেশির ভাগ যাত্রী তলিয়ে গেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। আমাদের প্রতিনিদি নৌকা করে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নদীতে ঢেউ প্রচণ্ড। সাহস পাচ্ছে না।

আমাদের কি সেখানে রিপোর্টার পাঠানো দরকার আছে, বললেন এডিটর। অনিন্দ্য বলল দুর্ঘটনাটি অনেক বড়। পাঠানো দরকার। প্রতিনিধি একা পারবে না। ফটোগ্রাফার একজনকে আমি পাঠিয়ে দিয়েছি। ঠিক আছে ওদের দুইজনকে পাঠিয়ে দাও। আর তুমি নিজে এটা মনিটর করে।

এডিটরের কথা মতো রিপোর্টার দুই জনকে পাঠিয়ে দিল। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে মনে হচ্ছে। একটু পরপর প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এ করতে করতে দুপুর হয়ে গেল। তিনটা নাগাদ পিয়ন এসে বলল ভাই খাবেন না। ও তাইতো। কটা বাজে। তিনটা বাজে। ঠিক আছে খাবার নিয়ে আস।

হটাৎ মনে পড়ল। ফারাহর সাথে সকালে কথা হয়নি। কি জানি কি করছে। মোবাইলটা বের করে ফোন দিল। ফোন রিসিভ করল না। আবার কল। কিন্তু রিসিভ হলো না। পিয়ন খাবার নিয়ে এলো। অনিন্দ্য ভাবল ভাত খেয়ে কথা বলবে। এরই মধ্যে এডিটর মিটিং এ ডাকল। অনিন্দ্য কোন মতে কিছু খেয়ে ছুটল মিটিংএ।

মিটিং এ সার্বিক পরিস্থিতি এডিটরকে জানালো অনিন্দ্য। মিটিং শেষে দেখে ৫টা বেজে গেছে। শুরু হলো নিউজ রুমের কাজ। অনিন্দ্য উস খুস করছে। ফারাহ জানি কি করছে। নিশ্চই খুব বেশি রেগে আছে। সকাল থেকে না খাওয়া। তা না হলে ফোন রিসিভ করবে না কেন। ফারাহর এ অভ্যাস নতুন না। একটু দেরি হলেই গাল ফুলিয়ে বসে থাকে। তার সাফ কথা। সকালটা শুরু হবে তোমার সাথে কথা বলার মধ্য দিয়ে। অনিন্দ্যেরও অভ্যাস হয়ে গেছে। এখন ফারাহর সাথে কথা না বললে মনে হয় দিনটা শুরু হয়নি। প্রেম শুরুর পর থেকে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আজই প্রথম। আবার মোবাইলে ফোন দিল অনিন্দ্য। ফোনটা বাজছে। হটাৎ রিসিভ হলো। ফারাহর বাবা। অনিন্দ্য চুপ করে রইল। কথা বলবে কি না বুঝতে পারছে না। এরপর বলল- আংকেল আমি অনিন্দ্য। কেমন আছেন। ফারাহর বাবা উত্তর দিল ভাল নেই অনিন্দ্য।
-কেন কি হয়েছে।

-সকাল ১০টার দিকে যখন ঝড় হচ্ছিল। তখন ফারাহ গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিল। কিছু দূর যাওয়ার পর একটা ট্রাক ফারার গাড়িটা ধাক্কা দেয়। ফারাহার মারাত্মক আহত অনিন্দ্য। ও এখন আইসিইউতে।

অনিন্দ্যের মাথার ওপর ছাদ নেই। শুধু খোলা আকাশ। কিছুই যেন নেই সেখানে। কোন কিছু ভাবানার সময় নিল না। ব্যাগটা হাতে নিয়ে ছুটল। পিছন দিয়ে কে যেন ডাকছে। কিন্তু বুঝতে পারছিল না। ফিরেও তাকাল না। বাইরে ঝড়ো বাতাস। বৃষ্টি পড়ছে। রিকসাটা যেন তারই অপেক্ষায় ছিলো।

হাসপাতালে ঢুকতেই ফারাহর বাবাকে দেখতে পেল অনিন্দ্য। পাশে তার বাবা-মা। অনিন্দ্যকে দেখে এগিয়ে এলেন সাদেক খান। তাকে জড়িয়ে ধরে অঝোড় কান্না করছিল লোকটা। বলল অনিন্দ্য তুমি একদিন আমার মেয়েকে বাঁচিয়েছিলে আজও তুমি ওকে বাঁচাও। আমার মেয়েটাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না।

কোন কথা বলল না অনিন্দ্য। ডাক্তারের কাছে ছুটে গেল।
-কি অবস্থা ডাক্তার।
– মাথায় আঘাত পেয়েছে। ব্লিডিং হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা না গেলে কিছুই বলা যাবে না।
-আমি ওর কাছে যাব।
-ডাক্তার অনুমতি দিল।

-অনেকগুলো তার ফারাহকে জড়িয়ে দেখেছে। নাকে মুখে হাতে। মাথায় ব্যান্ডেজ। চোখ দুটো বুজে আছে। যন্ত্রে টুক টুক শব্দ জানান দিচ্ছে। নিথর দেহটার। ঘুমাচ্ছে ফারাহ। ভাবছে অনিন্দ্য কখন সে জেগে উঠবে। জেগে কি বলবে।

-সারাদিন কোথায় ছিলে। সকাল থেকে একবারও আমার কথা মনে হয়নি। আমি বেচে আছি না মরে গেছি তুমি কি কোন খোঁজ নিছ। বুঝলাম না একটা মানুষ এত পাষাণ হয় কি করে। সকালে ফোন দিলে না। তোমাকে কত বার ফোন দিয়েছি। আর তুমি। এজন্যই মানুষকে এতো বেশি ভালোবাসতে নেই। এতো বেশি ভালোবাসি বলে মানুষ আমাকে কষ্ট দেয়। ওরা বুঝে না আমার ভালোবাসা। কারণ ওরাতো আমাকে ভালোবাসে না। যদি ভালোবাসতো তবে নিশ্চই একবার হলেও খোঁজ নিত আমি কোথায় আছি কি অবস্থায় আছি।

যন্ত্রের টুং টাং শব্দ। নিঃশ্বাসের আঁকাবাঁকা রেখা আর ফারাহ জীবন যুদ্ধে। অনিন্দ্য অপলক দৃষ্টিতে ফারাহর জেগে উঠার অপেক্ষা করছে। যন্ত্রের রেখা চাইছে সরল হতে। ফারাহ বলছে না, আমি আমার অনিন্দ্যের কাছে যাব। তাকে বলতেই হবে সারাদিন কেন আমার খোঁজ নিল না। রেখা বলছে সে সুুযোগ তোমায় দেব না। ফারাহ লড়ছে। কঠিন লড়াই। অনিন্দ্য ফারাহর হাতটা চেপে ধরে। যদি ফারাহ অনুভূতিতে আশ্বস্ত হয় তার অনিন্দ্য এসেছে। আর কোন ভাবনা নেই। অনিন্দ্যের হাতের স্পর্শে  ফারাহ শান্ত হয়। যন্ত্রের রেখা সরল হয়। নিশ্চিন্ত ফারাহ লড়াই থামায়।

আরও পড়ুন...

করোনায় আরও ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,২৩০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য …