11 Agrohayon 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০
Home / সর্বশেষ / অস্ফুষ্ট ভালোবাসা : পর্ব ৫

অস্ফুষ্ট ভালোবাসা : পর্ব ৫

 

 

অনিন্দ্যের বাবা মোশাররফ হোসেন। ব্যাংক কর্মকর্তা। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন মানুষ। চাকরি জীবনে তিনি খুব সিনসিয়াস। শুধু চাকরির ক্ষেত্রে না, পরিবার, আত্মীয় স্বজনদের কাছেও তিনি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি। পরিবারের সবাই তাকে খুব শ্রদ্ধার চোখে দেখে। কারও কাছে কুটু কথা শুনার মানুষ না। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িটা করেছেন। এলাকার লোকজন তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে। ছেলে মেয়ে দুজনকে নিয়েই তিনি গর্ব করেন। কারণ তাদের দু জনের নামে এলাকাবাসীর উচ্চ ধারনা। বিষয়টি মোশাররফ সাহেব খুব ইনজয় করেন।

সাদেক চৌধুরি আজ সকালে হটাৎই ফোন করেছেন। এর আগেও তার সাথে কথা হয়েছে। অনিন্দ্য যখন ফারাহকে চট্টগ্রামে সাহায্য করেছিল তখন। ওই দিন তিনি অনিন্দ্যের এতোই প্রশংসা করেছিলেন মনে হয়েছিল অনিন্দ্য তার হাজার কোটি টাকার কাজ করে দিয়েছে।

অনিন্দ্যকে নিয়ে সাদেক চৌধুরির প্রশংসার বাক্যগুলো এখনো মনে করতে পারেন মোশাররফ সাহেব। কিন্তু আজ যে কথাগুলো তিনি বলেছেন তা মনে হয়েছে তীরের মতো বিধেছে। হতে পারে তার মতো অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক না, তার মেযের উপকার তো একদিন অনিন্দ্য করেছে। ওই উপকারের কথা সেদিন তিনিই অনিন্দ্যের প্রশংশায় পঞ্চমুখ ছিলেন। আজ যখন তার মেয়েটিকে ভালবেসে অনিন্দ্য কাছে পেতে চাইছে তখন যেন তার আঁতে ঘা লেগেছে। বারান্দায় ইজিচেয়ারে বসে এসব নানা কথা ভাবছিলেন মোশাররফ সাহেব।

অনিন্দ্যের মা এলা, -কি ঘুমাবে না। অনেক রাত হয়ে গেল।
– হু ঘুমাবো।
– তবে বসে আছো কেন?
– ভাবছি ?
– কি?
– ভাবছি, কত টাকার মালিক হলে ফারাহর সঙ্গে অনিন্দ্যের বিয়েটা দিতে পারবো।
– শুন। তোমার হাজার কোটি টাকা থাকলেও তোমার ছেলের সাথে ওই মেয়ের বিয়ে হবে না।
– কেন? আমার ছেলে কি তার যোগ্য না। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করেছে। সাংবাদিকতা করছে। খারাপ কি? সাদেক সাহেব হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হতে পারে, কিন্তু আমার ছেলের যে আত্মমর্যাদা আছে, সম্মান আছে তা কি সাদেক সাহেব পাবেন। কখনো পাবে না। আমি আজ তোমাকে বলছি। অনিন্দ্যকে আমি যাই বলি না কেন, আই ফিল প্রাউড যে আমি তার মতো একটা ছেলের বাবা।
– সেটাই তো আমি তোমাকে বললাম। তুমি হাজার কোটি টাকার মালিক হলেও উনি অনিন্দ্যকে পছন্দ করবে না। কারণ অনিন্দ্য কাউকে ঠকায় না। আর সাদেক সাহেবদের মতো ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন একজন মানুষকে ঠকিয়ে ঘুমাতে যায়। ঘুম থেকে উঠে আরেকজনকে ঠকায়।
– কিন্তু ছেলেটা যে কষ্ট পাবে। আমি বুঝি অনিন্দ্য ফারাহকে অনেক ভালবাসে।
– সে তো আমিও জানি। কিন্তু কি করবা। ভেবে দেখ। আমার মাথায় কিছু কাজ করছে না।
– কত বড় স্বার্থপর হলে একজন মানুষ বলতে পারে আমার মেয়ের মাসে যে টাকা হাত খরচ তা অনিন্দ্যের তিন মাসের বেতন। আরে বেটা ওই দিন অনিন্দ্য না থাকলে তো তোমার মেয়েকে শেয়াল ছিড়ে খেত। সেটা ভাল হতো। এত সহজে সব ভুলে গেলি।
– ফারাহ খুবই মিষ্টি একটা মেয়ে। ও আমার সংসারে এলে খুব ভাল হতো। থাক বাদ দাও এখন। ঘুমাতে আস। দেখি অনিন্দ্যের সঙ্গে কথা বলে ও কি বলে।

আরও পড়ুন...

করোনায় আরও ৩২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২,২৩০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য …